ঋণ খেলাপির দায়ে মান্নার রিট খারিজ: ত্রয়োদশ নির্বাচনে অনিশ্চিত মাহমুদুর রহমান মান্না
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও জনপ্রিয় রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্না। ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা তার রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, এই আদেশের ফলে আসন্ন নির্বাচনে মান্নার অংশগ্রহণের পথ আপাতত রুদ্ধ হয়ে গেল।
আদালতে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। শুনানি শেষে শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ খেলাপির তালিকায় নাম থাকায় মান্না নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন এমন আশঙ্কায় রিট করেছিলেন। আদালত সেটি খারিজ করায় তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।" তবে মান্নার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানিয়েছেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, যখন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান 'আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড' এর কাছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করা হয়। নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় তিনি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন।
মাহমুদ রহমান মান্নার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
ছাত্র রাজনীতির স্বর্ণযুগ (১৯৭০-১৯৮০): সত্তরের দশকে মান্না ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ছিলেন। পরবর্তীতে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি তৎকালীন ছাত্র সমাজের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০-১৯৯০): ১৯৫০-এর দশকে যে ছাত্র রাজনীতি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তুলেছিল এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়েছিল, সেই ধারারই অন্যতম উত্তরসূরি ছিলেন মান্না। ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
দলবদল ও বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০০৯-২০২৪): ছাত্র রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এসে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে সংস্কারপন্থী হিসেবে দল থেকে ছিটকে পড়ে নিজে 'নাগরিক ঐক্য' গঠন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অন্যতম সমর্থক ছিলেন।
২০২৫-এর চ্যালেঞ্জ: ২০২৫ সালের এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে 'ক্লিন ইমেজ' ও 'আর্থিক স্বচ্ছতা' রাজনীতির প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে একজন বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা সুস্থ ধারার রাজনীতির যে আকাঙ্ক্ষা, সেখানে আর্থিক নৈতিকতা এখন সবচেয়ে বড় মাপকাঠি।
আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে হাইকোর্টের এই আদেশের পর তার নির্বাচনী ভাগ্য এখন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।
সূত্র: ১. হাইকোর্ট বিভাগ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমানের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং। ২. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (বড়গোলা শাখা, বগুড়া) এর কল ব্যাক নোটিশ। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |